টুডে পোস্ট ২৪ ডটকম: নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম দেওভোগ রবিবার রাতে আবারও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাজ্জাদ হোসেন(৩৯) পিতা: নূর হোসেন,এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
হামলাকারীরা এ সময় ওই প্রবাসীর বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা একটি এল ই ডি টেলিভিশন ভাঙচুর করে পানিতে ফেলে দেয়। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা এলাকায় কমপক্ষে ২০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ ২৫ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটল।জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকাধীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ সুযোগে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে নারায়ণগঞ্জ সদর ফতুল্লা, চাষাড়া,দেওভোগ এলাকায়।
রোববার রাতেও ২৭পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রবাসী ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা এ সময় ওই প্রবাসীর বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভেঙে নগদ টাকা-পয়সা ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত ফতুল্লা এলাকায় কমপক্ষে ২৫টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে ২০-৩০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও তার সহযোগী কর্মীদের কুপিয়ে আহত করে নগদ টাকা-পয়সাসহ আড়াই লাখ টাকার মালামাল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। একই বাহিনী চাষাড়া বিসমিল্লাহ্ বিরিয়ানির হোটেল, সহর আলীর ঔষধের দোকান, জসিম উদ্দিনের দালানের রড ও আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
এছাড়াও ফজা মিয়ার বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট, শাহজালালের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট, উজ্জ্বল মিয়ার বাড়ির আসবাবপত্র ও গরু লুট, মারফত আলীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুট করে নিয়ে যায়। একই সময় এই বাহিনীর সদস্যরা মালেক হাজী ও আহসান উল্লাহর দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আব্দুস সোবহানের ছেলে রেজেয়ানের মোটরসাইকেলে। হামলাকারীরা এ সময় আবু বক্কর সিদ্দিক মিয়ার ৬টি ড্রামট্রাকের ব্যাটারিসহ ১০টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে যায়। সাবেক মহিলা মেম্বার মমতাজ বেগমের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করাসহ কমপক্ষে ২৫টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজাহারুল ইসলাম মান্নান জানান, নারায়ণগঞ্জে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার কোনো ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়। নাশকতার ঘটনায় যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


