নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: একজন বিড়ি বিক্রেতা থেকে হাজারো কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার সহযোগী ও শীর্ষ ঋণখেলাপি সুরুজ মিয়াকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার সমিতি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলের সেগুনবাগিচায় সংগঠনটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর তার অত্যাচার আরও বেড়ে গেছে, ফলে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, জাহাঙ্গীর আলম, জয়নাল আবেদীন, তোফায়েল আহমেদ ও মঞ্জুরুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৮০ সালের গোড়ার দিকে বন্দরের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চৌকি খাট পেতে আকিজ বিড়ি, বিস্কুট ও চকোলেট বিক্রি করতেন সুরুজ মিয়া। পরে মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় তার মদদে গড়ে ওঠে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী, যারা ছিনতাই, ডাকাতি ও খুন-রাহাজানির সঙ্গে যুক্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে ব্যবসায়ী ও ব্যাংক মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
অভিযোগ করা হয়, সুরুজ মিয়া বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের বড় কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা। শুধু কমার্স ব্যাংক থেকেই তিনি প্রায় ৮০ কোটি টাকার ঋণখেলাপি। ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি ৪৮ কোটি টাকার সুদ মওকুফের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দেওয়ায় ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন পদত্যাগে বাধ্য হন।
বক্তারা সুরুজ মিয়াকে শীর্ষ ঋণখেলাপি ও সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তার গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একইসঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা পুনঃতদন্তেরও আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে কথা বললেই নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত বলে জানান এবং সরকারের কাছে সুরক্ষা দাবি করেন।

