নিজস্ব প্রতিবেদক: আমজনতার দলের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দার সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে, সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নামধারী একটি গোষ্ঠী আবারও পুরনো কৌশল—গুজব, উস্কানি ও অপপ্রচার—কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণ আজ স্পষ্টভাবে বুঝে গেছে—আওয়ামী লীগ নয়, বরং “গুজব লীগ” নামটাই তাদের চরিত্রের সঙ্গে মানানসই।

আগামী ১৩ নভেম্বর ঘোষিত অবরোধের নামে কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হলে, দেশের সাধারণ মানুষ তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। আমজনতার দল জানাতে চায়—জনগণের নিরাপত্তা ও দেশের সম্পদের সুরক্ষায় আমরা সর্বদা প্রস্তুত। প্রয়োজনে প্রতিরোধের প্রতিটি হাত সক্রিয় হবে। বাসের লাঠি এখনো প্রস্তুত আছে—শুধু প্রয়োগের অপেক্ষায়। যুদ্ধ শেষ হতে পারে, কিন্তু ট্রেনিং আমরা ভুলিনি।
আমরা স্মরণ করি—জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়। এই গণআন্দোলনে অসংখ্য তরুণ-যুবক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে, কেউ কেউ পঙ্গুত্ববরণ করেছে। তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। আজ সেই ঋণ পরিশোধের পালা এসেছে—সেই ত্যাগের প্রতিদান দিতে হবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
আওয়ামী লীগ আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অপ্রাসঙ্গিক ও অভিশপ্ত নাম। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবুও এই পরাজিত গোষ্ঠী এখনো রাজনীতি করার দুঃস্বপ্ন দেখে। গুপ্তচরবৃত্তি, ষড়যন্ত্র আর গুজব ছড়িয়ে তারা আবারও দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে লিপ্ত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন নির্বাচনকালীন কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে নিরলস কাজ করছে, তখন আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কূটকৌশলের মাধ্যমে তা ব্যাহত করার পাঁয়তারা করছে। এটা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র।
আমজনতার দল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—শত চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ দেখাতে পারবে না। কারণ, এই সরকার জনগণের প্রত্যাশার ফসল, এবং জনগণেরই শক্তিই এর সবচেয়ে বড় ভিত্তি। দেশের মানুষ এখন শান্তি, ন্যায় ও সুশাসনের রাজনীতি চায়—গুজব, দমননীতি ও ফ্যাসিবাদ নয়।
আমরা বারবার বলেছি—এই দেশ কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। এটি ১৮ কোটি মানুষের। যারা একাত্তরের চেতনার কথা বলে কিন্তু সেই চেতনাকেই ব্যবহার করে ক্ষমতা ও দমননীতির যন্ত্র বানিয়েছে, তাদের দিন শেষ। বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট দুর্বৃত্তায়নের কোনো স্থান নেই।
আমজনতার দল মনে করে, সত্যিকারের মুক্তি তখনই আসবে, যখন আমরা একদিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের রাষ্ট্রদ্রোহীদের বিচার সম্পন্ন করব, অন্যদিকে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যারা নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে—তাদেরও বিচারের আওতায় আনব। এটাই হবে নতুন বাংলাদেশের ন্যায় ও জবাবদিহির রাজনীতির ভিত্তি।
আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—কোনো গুজবে কান দেবেন না। যারা সহিংসতার পরিকল্পনা করছে, তারা এই জাতির শত্রু। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর বিভ্রান্ত হবে না। জনগণ জানে কারা দেশের পক্ষে, আর কারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
আমজনতার দল বিশ্বাস করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনই হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আমরা সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।
এই স্বপ্ন কোনো দলের নয়, পুরো জাতির। তাই আজকের এই আহ্বান—চলুন আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়াই, মিথ্যা, গুজব ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পরিহার করে সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্রের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করি।
বাংলাদেশ আর কখনোই গুজবের, ভয়ের বা লাঠিপেটার রাজনীতিতে ফিরতে চায় না। জনগণের প্রতিরোধ এখনই শুরু হয়েছে। যে আওয়ামী লীগ একসময় মুক্তির নাম ছিল, তারা আজ পরিণত হয়েছে গণবিরোধী প্রতীকে। এই অভিশপ্ত ইতিহাসের অবসান ঘটাতে হবে—জনগণের হাতেই তার রায় লেখা হবে।
আমজনতার দল জনগণের পাশে থাকবে, সত্যের পাশে থাকবে, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের পাশে থাকবে।

