টুডে পোস্ট ২৪ ডটকম: নেত্রকোনা জেলার মদন থানাধীন পাওনা টাকা চাওয়ায় মাজহারুল ইসলাম মাজুকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি মোহাম্মদ কাইকুল খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছেন আদালত।
২২ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুন নাহার আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক জাফর ইকবাল।
তিনি আরো বলেন, চাঞ্চল্যকর মাজহারুল হত্যার মামলায় গ্রেফতার কি তো আসামি কাইকুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে মদন থানা পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ কাইকুল খান ৭নং নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন খানের ছেলে।
উল্লেখ্য ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ২৯ মার্চ রাতে আমিরুলের কাছ থেকে পাওনা টাকা চায় মাজহারুল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয় একপর্যায়ে আমিরুল ক্ষিপ্ত হয়ে ঐদিন রাতেই গ্রেফতারকৃত আসামি কাইকুল সহ তার দলবল নিয়ে মাজহারুলের বাড়ির সামনে তার ওপর হামলা করে। হামলায় তারা চাইনিজ রামদা দিয়ে মাজহারুল কে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে যখম করে।
পরে মাজহারুলকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেওয়া হয় পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ এপ্রিল সকাল ৮ টা ১১ মিনিটে মারা যান তিনি।
উক্ত ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতে মাজারুল ইসলামের ভাই আজিজুল ফকির বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলায় ১০ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলেন ; মো. সেকুল মিয়া (২৮), আমিরুল ইসলাম (৩৫), রতন ফকির (৪৫), তৌহিদ (৪৮), কাকন (২৮), কাইকুল (৩৫), শাকিল (২৩), মো. ছাব্বির হোসেন (২৫), ইমরান পাঠান (২৪), মলয় ফকির (২৩)।
এ বিষয়ে নিহত মাজহারুলের ভাই আজিজুল ফকির বলেন, আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে তাদের প্রত্যেকের বিচার আমি চাই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই আবেদন দ্রুত আমার ভাইয়ের হত্যায় জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে আমাদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ করে দিবেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাঈম মোহাম্মদ নাহিদ হাসান বলেন, মাজহারুল ইসলাম হত্যা মামলায় আমরা একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ ও পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করি। আদালত তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া হত্যায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের ধরার জন্য আমাদের টিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


