নিজস্ব প্রতিবেদক:- আমার নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত—একটি স্পষ্ট ও বাস্তবধর্মী ব্যাখ্যা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আজ আমার নেই এটাই অকপট সত্য। সেই কঠোর বাস্তবতাকে সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি না। কিন্তু এর মাধ্যমে আমার সংগ্রাম, আমার আদর্শ কিংবা দেশ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ কোনোভাবেই কমে যাবে না। বরং আরও শক্তভাবে, আরও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় থাকবো—ইনশাআল্লাহ।
আমি যে সামান্য আয় করি, তা অনেক পরিশ্রম ও ঘামঝরানো শ্রমের ফল। সেই উপার্জনে নিজের সংসারই কোনোরকমে চলে; প্রচণ্ড ব্যয়বহুল নির্বাচনী রাজনীতি সামাল দেওয়ার মতো সামর্থ্য সেখানে নেই। আপনারা সবাই জানেন—বর্তমান বাংলাদেশের নির্বাচনী কাঠামো কতটা ব্যয়সাপেক্ষ, কতটা প্রতিযোগিতামূলক, আর কতটা অসম।
বাংলাদেশের নির্বাচনী বাস্তবতায় সুবিধাজনক দুই শ্রেণি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাধারণত দুই ধরনের মানুষের পক্ষেই নির্বাচনে সফল হওয়া তুলনামূলক সহজ। ব্যতিক্রম আছে—কিন্তু সেগুলো খুব বিরল।
১. দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক শ্রেণি যারা বছরের পর বছর ক্ষমতা, প্রভাব, মাঠ-নিয়ন্ত্রণ, দলীয় কাঠামো ও প্রশাসনিক সুবিধার মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে বহু নেতাই এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের পেছনে আছে বিশাল সংগঠন, তহবিল, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক ও দীর্ঘমেয়াদি জনসম্পর্ক।
২. আর্থিকভাবে সমৃদ্ ব্যবসায়ী–শিল্পপতি শ্রেণি যাদের জন্য প্রচারণার খরচ, লজিস্টিক, ব্যানার–পোস্টার–মাইক, কর্মীদের আইসিটি সাপোর্ট, পরিবহন—এসব কিছুই বাধা নয়। তাদের কাছে নির্বাচন হলো আরেকটি বিনিয়োগ, আরেকটি ক্ষেত্র।
যেমন: দেশের বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ, শিল্পগোষ্ঠী বা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্ষম ব্যক্তিরা—এদের ডামি নির্বাচনেও প্রতিযোগিতা করতে দেখা যায়।
আমার গত দশ বছরের সংগ্রাম—অর্থ নয়, আদর্শ ছিল মূল ভিত্তি ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুরো দশ বছর আমি রাজনীতির কঠিনতম সময় পার করেছি— হামলা, মামলার বোঝা, দিন-রাতের লুকোচুরি, রিমান্ড, কারাবাস—সবকিছুই দেখেছি। এই দীর্ঘ সংগ্রামে আমার নিজের জমানো অর্থ বারবার নিঃশেষ হয়েছে। অনেকেই হামলা–মামলার সুযোগে লক্ষ কোটির মতো অর্থ সংগ্রহ করেছেন—কিন্তু আমি কখনো কারো কাছে হাত পাতিনি।
বাবার রেখে যাওয়া সামান্য সম্বলও দেশের রাজনীতি ও আন্দোলনের পেছনে উৎসর্গ করেছি। একজন বাবার একমাত্র সন্তান হয়েও আমি নিজের জীবন, নিরাপত্তা, অর্থ—সবকিছু ত্যাগ করেছি নীতি-আদর্শ ধরে রাখার জন্য। কারাগারের অন্ধকার কক্ষে রাত কাটিয়েছি, কিন্তু মনোবল ভাঙিনি।
আমি বারবার অনুভব করেছি— দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে অসীম সম্পদের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন সঠিক পথে থাকা।
নির্বাচন করতে গেলে যে অদৃশ্য ব্যয় মানুষের চোখে পড়ে না নির্বাচন মানে শুধুই ব্যানার বা পোস্টার নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত— কর্মীর খাবার যাতায়াত ব্যয় রাত্রিযাপনের লজিস্টিক জনগণের বিভিন্ন ছোট–বড় চাহিদা ক্যাম্প অফিস চাল–ডাল সহায়তা প্রচারণা সামগ্রী
ঘরের ঘরে পৌঁছানোর পরিবহন সোশ্যাল মিডিয়া টিম লিফলেট–ব্যানার–ফেস্টুন ভোটের দিন এজেন্টদের ব্যবস্থা এই বাস্তবতা খুবই কঠিন। অর্থ নেই—তাহলে কেউ পাশে থাকে না। লোকসঙ্গাও থাকে না। এই কঠোর বাস্তবতা আমাকে ভীষণভাবে ভাবায়। তবুও অভিজ্ঞতার দিক থেকে আমি পিছিয়ে নেই
যারা ভাবছেন আমি শুধু আবেগ দিয়ে বলছি—তাদের জন্য আমার নির্বাচনী অভিজ্ঞতা: ২০১৪ — ফেনী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ২০১৮ — জাতীয় সংসদ (এক-আসন) নির্বাচন, ২০২১ — ফেনী পৌরসভা নির্বাচন। ঢাকা ১৭ উপনির্বাচন — সক্রিয় অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতায় আমি কারোর চেয়ে কম নই। হেরে যাচ্ছি শুধু অর্থের কাছে, নীতিহীন অর্থলোভী লোকদের কাছে—যারা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে ফেলে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়ে।
তবে… সম্ভাবনার দরজা এখনো বন্ধ নয় যদি সমাজের কোনো সৎ, দায়িত্বশীল, উচ্চমানের ব্যক্তি মনে করেন— আমার মতো একজন রাজনৈতিক কর্মী তাদের সহযোগিতায় মানুষের কল্যাণে আরও বড় অবদান রাখতে পারে, তাহলে আমি অবশ্যই তা বিবেচনায় নেবো। আমি কখনো ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করিনি, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজনীতি করেছি।
যদি জনগণ ও দেশ আমাকে প্রয়োজন মনে করে, যদি সত্যিকারের সহযোগিতা আসে, তাহলে বিজয়ের তৌফিক নিয়ে আবারও মাঠে নামবো— এবং ইনশাআল্লাহ বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরবো।


