টুডে পোস্ট ২৪ ডটকম: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় গত ১২ মার্চ পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তদের দাবি, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য, বিকৃত সাক্ষ্য ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনাটিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও এর অংশীদারদের নিয়ে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্র হত্যার মামলার আসামি গোলাম মোস্তফাকে ছিনিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান সোহাগ। চার্জশিটে তার সঙ্গে আরও ১৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার এসআই মোঃ সহিদুল ওসমানের দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযুক্তদের দাবি, এ চার্জশিট এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অংশীদার খান মোঃ আক্তারুজ্জামানের প্রভাব ও ষড়যন্ত্রে প্রণীত।
২ নম্বর আসামি আনিসুর রহমান সোহাগ জানান, ঘটনার সময় তিনি স্কুলের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে অভিভাবক মিটিং পরিচালনা করছিলেন। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে তার উপস্থিতি স্কুলের ভেতরে প্রমাণিত হলেও ঘটনাস্থলে কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি।
অভিভাবক ও শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিয়েছেন, সোহাগ ঘটনার সময় ভবনের ভেতরেই ছিলেন।
এছাড়া সোহাগ দাবি করেন, তিনি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। আন্দোলনের সমর্থনে ফেসবুকে প্রচারণা চালানো এবং আন্দোলনকারীদের সহায়তা প্রদান করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্তদের আরও অভিযোগ, খান মোঃ আক্তারুজ্জামান ও তার সহযোগীরা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
চার্জশিটে সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে দুইজন ফোনে যোগাযোগে সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। সাক্ষী মোশারফ হোসাইন এ ঘটনাকে “মিথ্যা ও অন্যায্য অপপ্রচার” বলে মন্তব্য করেছেন।
৩ নং আসামি আরিফুল ইসলাম মীর সাগর জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি তার মায়ের অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ছিলেন। চিকিৎসা প্রমাণপত্রে বিষয়টি স্পষ্ট।
৪ নং আসামি সোহেল শাহরিয়ার বলেন, তিনি সেদিন অভিভাবক মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, সিসিটিভিতেও তার অবস্থান স্কুল ভবনে ধরা পড়েছে।
অন্য আসামি আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, তিনি সেদিন ছুটিতে ছিলেন এবং ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত কয়েকজন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী অভিযোগ করেছেন, তারা নিরপরাধ, ঘটনার সময় স্কুলে উপস্থিতই ছিলেন না। “আমরা দরিদ্র মানুষ, এই চাকরিই একমাত্র জীবিকার উৎস। অথচ আমাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে,”— বলেন তারা।
অভিযুক্তদের দাবি, খান মোঃ আক্তারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, তিনি দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানির সঙ্গে যুক্ত।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইনি প্রক্রিয়া যদি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ন্যায়বিচারকে বিপন্ন করে। তারা মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ও ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই এবং সাক্ষীদের স্বাধীনভাবে সাক্ষ্য প্রদানের নিশ্চয়তা দাবি করেছেন।
তাদের মতে, “ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখা জরুরি, যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে।”


